editor1
- ৮ নভেম্বর, ২০২৬ / ৩৫ জন দেখেছেন

পাকিস্তানে ১২টি প্রদেশ গঠনের পরিকল্পনা, ছবি- সংগৃহিত
একুশের কন্ঠ ডিজিটাল ডেস্ক : পাকিস্তানের প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের চিন্তাভাবনা চলছে। দেশটির বিদ্যমান চারটি প্রদেশকে পুনর্গঠন করে ১২টি প্রদেশে রূপান্তরের একটি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের আগে জনগণের মতামত জানতে দেশজুড়ে গণভোট আয়োজনের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা, সরকারি সেবার পরিধি বাড়ানো এবং দেশের প্রত্যন্ত এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত করাই এ পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, বর্তমানে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় প্রদেশ পাঞ্জাবকে চারটি ভাগে বিভক্ত করার চিন্তা রয়েছে। এ ছাড়া খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তানকে তিনটি করে এবং সিন্ধুকে দুটি প্রদেশে রূপান্তরের প্রস্তাব করা হয়েছে। সব মিলিয়ে নতুন কাঠামোয় দেশটির প্রদেশের সংখ্যা দাঁড়াবে ১২টি।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে এ বিষয়ে ২৮তম সংবিধান সংশোধনী আনার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। তবে প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত রূপ পায়নি। নতুন প্রদেশগুলোর ভৌগোলিক সীমানা, প্রশাসনিক দায়িত্ব বণ্টন এবং প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক পরিবর্তন নিয়ে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত বাকি রয়েছে।
এদিকে প্রদেশ পুনর্গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনগণের সম্মতি নেওয়ার জন্য জাতীয় পর্যায়ে গণভোটের প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ও সমর্থন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে।
উদ্যোগটির সমর্থকদের বক্তব্য, বড় প্রদেশগুলোকে ছোট প্রশাসনিক অঞ্চলে ভাগ করা হলে স্থানীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হবে। পাশাপাশি সরকারি সেবা মানুষের আরও কাছাকাছি পৌঁছানো, আঞ্চলিক উন্নয়নের বৈষম্য কমানো এবং সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হবে।
তবে এত বড় প্রশাসনিক পরিবর্তন কার্যকর করতে রাজনৈতিক সমঝোতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে। প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মতি, সংসদীয় প্রক্রিয়া এবং সংবিধান সংশোধনের মতো জটিল ধাপ অতিক্রম করতে হবে। ফলে ১২ প্রদেশের পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নির্ভর করছে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার অগ্রগতির ওপর।
Like this:
Like Loading...
Related